
অর্থনীতি ডেস্ক | Falconnews24.com
দেশের হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারগুলোকে সুসংগঠিতভাবে রাষ্ট্রীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে আগামী ১০ মার্চ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সরকারি এক সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
প্রাথমিক পর্যায় ও বাস্তবায়ন: প্রাথমিকভাবে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি ওয়ার্ডে এই কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে— বনানীর কড়াইল বস্তি, পাংশা, পতেঙ্গা, বাঞ্ছারামপুর, লামা, খালিশপুর, চরফ্যাশন, দিরাই, ভৈরব, বগুড়া সদর, লালপুর, ঠাকুরগাঁও ও নবাবগঞ্জ। প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত কমিটি সরেজমিন যাচাই-বাছাই করে উপকারভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করবেন।
কার্ডের বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা: ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত—এই চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হবে। প্রতিটি কার্ডে পাঁচজন সদস্য অন্তর্ভুক্ত থাকবেন এবং বড় পরিবারের ক্ষেত্রে প্রতি পাঁচজনের জন্য আলাদা কার্ড দেওয়া হবে। এনআইডি কার্ডের মাধ্যমে উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে এবং অনুদানের অর্থ সরাসরি ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিসের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হবে।
অনিয়ম রোধ ও স্বচ্ছতা: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা জানিয়েছেন, বর্তমানে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে প্রায় ৫০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে ত্রুটি থাকায় অর্থের অপচয় হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড চালু হলে এই ত্রুটি কমিয়ে প্রকৃত দরিদ্রদের কাছে সহায়তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা পাবেন না, তবে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা যোগ্যতা অনুযায়ী সুবিধা পেতে পারবেন। নারীরা খানা প্রধান হিসেবে এই কার্ড পাবেন।
আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিগুলোকে উপকারভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।