
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরে দুই দেশের মধ্যে শ্রমবাজার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং হালাল শিল্প খাতে সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সফরের অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে আরও শ্রমিক নিয়োগ এবং দ্রুত শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টি আলোচনায় আসে।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কাছে আরও বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগের অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অনিয়মিত অবস্থায় থাকা শ্রমিকদের নিয়মিতকরণ এবং আটক বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টিও আলোচনায় তোলা হয়েছে।
দুই দেশের নেতারা একমত হয়েছেন যে শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী হওয়া প্রয়োজন। এর মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমানো এবং শ্রমিকদের নিয়োগ-সংক্রান্ত ব্যয় হ্রাস করা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন।
সফরে বাংলাদেশ রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি)-এ যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা সহযোগিতা, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে অংশীদারত্ব বাড়ানোর বিষয়ে সম্মতি জানানো হয়েছে। এছাড়া বৈশ্বিক ইসলামি অর্থনীতির সম্ভাবনাকে সামনে রেখে হালাল শিল্প খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
এদিকে সংস্কৃতি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবর্তন, অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া।
সোমবার স্থানীয় সময় সকালে মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক কেন্দ্র পুত্রাজায়ার পেরদানা পুত্রা ভবনে দুই প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণে আনুষ্ঠানিক বৈঠক এবং যৌথ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।