নিজস্ব প্রতিবেদক | ১ মে, ২০২৬
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের লড়াই এখন নতুন মোড় নিল। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি সাদিক কায়েমের নাম চূড়ান্ত করেছে। শুক্রবার (১ মে) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত মহানগরী দক্ষিণের দায়িত্বশীল সম্মেলনে এই বড় ঘোষণাটি আসে।
বিগত কয়েক দিন ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন ছিল যে, সাদিক কায়েমকে বড় কোনো দায়িত্বে দেখা যেতে পারে। আজকের এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর ছাত্রশিবিরের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানানোর হিড়িক পড়েছে। উল্লেখ্য যে, এই একই জোটে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টি ইতোমধ্যে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে তাদের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে। ফলে একই বলয় থেকে দুই শক্তিশালী প্রার্থীর উপস্থিতি নির্বাচনী সমীকরণকে বেশ জটিল করে তুলল।
পটভূমি ও প্রেক্ষাপট
সাদিক কায়েম ছাত্র রাজনীতির মাঠ থেকে উঠে আসা এক পরিচিত মুখ। ডাকসুতে নেতৃত্বের সময় থেকেই তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিলেন। জামায়াতে ইসলামী তাকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়ার পেছনে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার কৌশল কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ঢাকা দক্ষিণের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে একজন শিক্ষিত ও তরুণ নেতৃত্বকে সামনে এনে দলটি নিজেদের ভাবমূর্তি নতুনভাবে উপস্থাপন করতে চাইছে।
বাংলাদেশে প্রভাব
সাদিক কায়েমের এই প্রার্থিতা বাংলাদেশের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ধরনে আমূল পরিবর্তন আনতে পারে। প্রথাগত প্রবীণ রাজনীতিকদের বাইরে তরুণ ও মেধাবী নেতৃত্বের এই উত্থান সাধারণ ভোটারদের বিকল্প ভাবার সুযোগ করে দেবে। একই জোটের মধ্যে একাধিক প্রার্থী থাকাটা যেমন চ্যালেঞ্জের, তেমনি এটি সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশও তৈরি করতে পারে। এই ঘোষণার ফলে ঢাকা দক্ষিণের নির্বাচনী মাঠ এখন থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
সারসংক্ষেপ
রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামী সাদিক কায়েমকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করায় নির্বাচনের মাঠ এখন অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠল।