
দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিন ১১৫ টাকা, অক্টেন ১৪০ টাকা এবং পেট্রোল ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে তেলের দামের প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের বাজারে এসে পড়েছে।
আঞ্চলিক বাজার বিশ্লেষণ প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, কলকাতায় বর্তমানে প্রতি লিটার পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে ১০৫.৪১ রুপিতে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩৯.৮৩ টাকার সমান। অন্যদিকে অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত পাকিস্তানে চিত্রটা আরও ভয়াবহ। সেখানে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ৩৬০.৫৪ পাকিস্তানি রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৮১.৬৫ টাকা। শ্রীলঙ্কায় পেট্রোল প্রতি লিটার ৪৫৫ রুপি (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৭০.৯৯ টাকা) এবং ডিজেল ৩৮২ রুপি (বাংলাদেশি টাকায় ১৬০.৫৯ টাকা)। তবে ইন্দোনেশিয়ায় চিত্রটি ভিন্ন; সেখানে পেট্রোল বাংলাদেশি মুদ্রায় মাত্র ৮৮.৫১ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
বাংলাদেশে প্রভাব জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির ফলে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বে পরিবহন খাত। বাসের ভাড়া থেকে শুরু করে ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে চাল, ডাল ও সবজির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ওপর। এছাড়া সেচ কাজে ব্যবহৃত ডিজেলের দাম বাড়ায় কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচও কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
সারসংক্ষেপ: আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতায় বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের দাম এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে।