
রাজনৈতিক প্রতিবেদক | Falconnews24.com
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পদ থেকে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিএনপি সরকার আর্থিক খাতে পুনরায় লুটপাটের পথ উন্মুক্ত করে দিল।
আহসান মনসুরের অবদান: নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যাংকিং সেক্টরে শৃঙ্খলা ফেরাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আহসান এইচ মনসুরকে দায়িত্ব দিয়েছিল। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা এবং আমদানি-রপ্তানির আড়ালে অর্থপাচার বন্ধে অত্যন্ত দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছিলেন তিনি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকে 'মব' ও হেনস্তা: বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বিএনপি-আওয়ামী লীগপন্থী কিছু অসাধু কর্মকর্তা পরিকল্পিতভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছে। এমনকি গভর্নরের উপদেষ্টাকে শারীরিক হেনস্তা করে বের করে দেওয়ার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনাও ঘটেছে। তিনি এই হামলার নেপথ্যে নওশাদ মোস্তফা, সারোয়ার, মাসুম বিল্লাহ ও গোলাম মোস্তফা শ্রাবণসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করেন।
নতুন গভর্নর নিয়ে বিতর্ক: সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত নতুন গভর্নরকে 'বিতর্কিত ও ঋণ খেলাপি' হিসেবে আখ্যা দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে যার ৮৯ কোটি টাকার বেশি ঋণ খেলাপি ছিল, তাকে কোন যুক্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব দেওয়া হলো? তিনি মনে করেন, বিশেষ বিবেচনায় ঋণ পুনঃতপশিল করা একজন ব্যবসায়ীর হাতে দেশের আর্থিক খাত নিরাপদ থাকার কোনো সুযোগ নেই।
লুটপাটের আশঙ্কা: নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, "অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে না জানিয়েই অত্যন্ত অপমানজনকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট প্রতীয়মান হচ্ছে যে, সরকার সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর অর্থ পাচারের পথ আবারও সুগম করতে চায়। আমরা এই অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।"
তিনি অবিলম্বে কোনো সৎ, দক্ষ ও অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদের হাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানান।