
নিজস্ব প্রতিবেদক | Falconnews24.com
বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের বড় বড় সিদ্ধান্তগুলো কেবিনেটে না নিয়ে বাইরে নেওয়া হতো বলে জানিয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের অভ্যন্তরীণ পরিচালনা পদ্ধতি এবং নীতি-নির্ধারণী বিষয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন।
বাইরে থেকে সিদ্ধান্ত ও 'কিচেন কেবিনেট': সাখাওয়াত হোসেন বলেন, যারা ভিন্নমত পোষণ করতেন, তাদের মতামত সাধারণত ছোটখাটো বিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকত। তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে জানান যে, বড় সিদ্ধান্তগুলো কেবিনেটে না হয়ে বাইরে আলোচনা হতো। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সব সরকারেরই একটি 'কিচেন কেবিনেট' থাকে বলে তিনি শুনেছেন, তবে সেখানে কারা ছিলেন তা তিনি জানেন না। সম্ভবত তার মনোভাব ভিন্ন হওয়ায় তাকে সেই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
পুলিশের অস্ত্র ও নিরাপত্তা ঝুঁকি: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, পুলিশের পুনর্গঠনই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য। সে সময় থানা লুট ও অগ্নিসংযোগের ফলে পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক ছিল। প্রায় চার হাজার রাইফেল লুট হয়েছিল, যার মধ্যে এক হাজারের বেশি অস্ত্র এখনো নিখোঁজ রয়েছে, যা বর্তমান সরকারের জন্য বড় ঝুঁকি। এছাড়া পুলিশের কাছে ৭.৬২ বুলেট ও চাইনিজ টাইপ-৩৯ রাইফেলের মতো সমরাস্ত্র থাকার বিষয়েও তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং এর তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন।
দায়িত্ব ত্যাগ ও বর্তমান প্রেক্ষাপট: তাকে কেন সরিয়ে দেওয়া হলো—এই প্রশ্নে তিনি বলেন, তখনকার প্রেক্ষাপটে তার কিছু বক্তব্য খণ্ডিতভাবে গণমাধ্যমে আসায় সঠিক মনে হয়নি। তবে তিনি নিজে দায়িত্ব ছাড়তে চাইলেও অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তখন তাকে অনুমতি দেননি। বর্তমানে পরিস্থিতি আগের চেয়েও খারাপ হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নির্বাচন ও রাজনীতি: নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পৃথিবীতে কোথাও শতভাগ নিখুঁত নির্বাচন হয় না। তবে টানা তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে না পারা মানুষের এই নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং জামায়াতে ইসলামীর ৭৭টি আসন পাওয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় ঘটনা বলে তিনি মনে করেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিদেশি প্রভাব বিশেষ করে দিল্লি ও আমেরিকান কোম্পানির বাণিজ্যিক চাপের বিষয়গুলো নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রেখেছিল।