
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ একটি দেশ। প্রশান্ত মহাসাগরের 'রিং অব ফায়ার' বা 'অগ্নিবলয়ে' অবস্থিত হওয়ায় এই অঞ্চলে টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়া অত্যন্ত বেশি। জাপানের অতীত ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, দেশটিতে ছোট বা মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প প্রায় প্রতিদিনই ঘটে থাকে, যা তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। তবে সোমবার বিকেল ৪টা ৫৩ মিনিটে ঘটা এই ৭.৪ মাত্রার ভূকম্পনটি ছিল একেবারেই আলাদা এবং বেশ ভীতিকর। এর তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, উৎপত্তিস্থল থেকে কয়েকশ কিলোমিটার দূরে থাকা রাজধানী টোকিও শহরও প্রবলভাবে কেঁপে ওঠে, যার ফলে জনমনে গভীর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানি বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিের খবর এখনো পাওয়া যায়নি। তবে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এরই মধ্যে একটি বিশেষ সংকটকালীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দল গঠন করেছে, যারা উদ্ধার অভিযান ও ক্ষয়ক্ষতিের বিষয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে।
জাপানে ঘটা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সরাসরি কোনো ভৌগোলিক ধাক্কা বাংলাদেশে আঘাত না হানলেও এর সুদূরপ্রসারী নানা প্রভাব রয়েছে। প্রথমত, কর্মসংস্থান ও পড়াশোনার তাগিদে জাপানের টোকিওসহ উত্তরাঞ্চলীয় বিভিন্ন শহরে প্রচুর প্রবাসী বাংলাদেশি বসবাস করেন। স্বাভাবিকভাবেই এমন ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের খবরের পর বাংলাদেশে থাকা তাদের পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের মধ্যে গভীর উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দূতাবাসের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা এখন সময়ের দাবি।
দ্বিতীয়ত, জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্র। জাপানের মতো অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে সাপ্লাই চেইন ব্যাহত হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পরোক্ষভাবে তার রেশ পৌঁছাতে পারে। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো দুর্যোগ মোকাবিলায় জাপানের নিখুঁত ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা। নিয়মিত বড় ধরনের ভূমিকম্পের মুখে থাকা জাপানের এই তাৎক্ষণিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় এক শিক্ষণীয় পাঠ হতে পারে।