বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দলকে একটি 'প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থি' রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, তার দল সবসময় গণতান্ত্রিক ও জনমুখী রাজনীতিতে বিশ্বাসী। সম্প্রতি ভারতের প্রভাবশালী সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন 'দ্য উইক'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিষয়ে দলের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
সাক্ষাৎকারে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কর্তৃত্ববাদী সরকারের অধীনে বাস্তবে ২০১৩ সাল থেকেই তার দল কার্যত নিষিদ্ধ ছিল। তবেล่าสุด গণ-অভ্যুত্থান এবং আদালতের রায়ে নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে পাওয়ায় দলের কর্মীরা নতুন করে উদ্দীপ্ত। তিনি জানান, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আমাদের ছাত্রসংগঠনের বিজয় তরুণ প্রজন্মের আস্থার প্রতিফলন। আমরা নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।"
আনুষ্ঠানিক রাজনীতির বাইরে থাকার সময়টাকে দলের জন্য একটি শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সময়ে সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মিল রেখে রাজনৈতিক কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে।
দলকে 'ক্যাডারভিত্তিক' বলা হলেও এর আদর্শের মূল ভিত্তি হলো—শৃঙ্খলা, জবাবদিহি এবং জনসেবা, যা বর্তমান দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতির প্রেক্ষাপটে একটি শক্তিশালী দিক বলে তিনি মনে করেন।
তরুণদের প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, "ব্যর্থ প্রতিশ্রুতি এবং অকার্যকর শাসনে হতাশ তরুণদের জন্য জামায়াত একটি বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প।" তার দল তরুণদের দেশের উন্নয়নের অংশীদার মনে করে এবং তাদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মনোযোগ দেবে।
দলের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনার জবাবে ডা. শফিকুর রহমান একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি বলেন, "জামায়াতে ইসলামীর আমির হিসেবে আমি প্রকাশ্যে বলছি, ১৯৪৭ সালের পর থেকে যদি কোনো জামায়াত সদস্যের কর্মকাণ্ডে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন, আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।"
এবারের নির্বাচনে হিন্দু সম্প্রদায়ের একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যা সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার প্রতি তাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন বলে তিনি উল্লেখ করেন। নারী প্রার্থী না থাকার কারণ হিসেবে তিনি জোটভিত্তিক আসন বণ্টনকে উল্লেখ করেন এবং বলেন, জামায়াত অতীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বহু নারী প্রার্থী দিয়েছে এবং দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।