
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে অঞ্চলজুড়ে অস্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাত তেহরানের জন্য কূটনৈতিক আলোচনায় বাড়তি সুবিধা তৈরি করতে পারে।
এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এর আগে ইরানও ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। উভয় পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
ইরানের দাবি, বৈরুতের ওপর ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়াতেই তারা সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েল তাদের নিরাপত্তা স্বার্থের কথা উল্লেখ করে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতি দেখাচ্ছে যে, যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাস পরও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়নি। বরং যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে সংযমের আহ্বান জানালেও ইসরায়েলের সিদ্ধান্তের ওপর ওয়াশিংটনের প্রভাব কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
ইরান এই বাস্তবতাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তেহরান মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যেকোনো মতপার্থক্য তাদের আলোচনার অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়তে পারে। বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তেলের মূল্যবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতি, পরিবহন ব্যয় এবং আমদানি খরচে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাত শুধু সামরিক নয়, কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনা যত বাড়বে, তেহরান তত বেশি কৌশলগত সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করবে।