
হরমুজ প্রণালিতে ছোট ও দ্রুতগতির স্পিডবোট ব্যবহার করে নতুন ধরনের সামরিক কৌশল প্রয়োগ করছে ইরান। পশ্চিমা বিশ্লেষকরা এই কৌশলকে “মশা নৌবহর” নামে অভিহিত করছেন।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী এখন “মেশিনগান লাগানো ছোট ছোট নৌকায়” সীমাবদ্ধ। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আকারে ছোট হলেও এসব নৌকা বড় শক্তির নৌবাহিনীর জন্যও কার্যকর হুমকি তৈরি করতে সক্ষম।
বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে এসব দ্রুতগামী নৌকা ব্যবহার করে ইরান আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। এর মাধ্যমে তেহরান মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি করা। কারণ বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের বড় একটি অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়েই যায়। ফলে সেখানে সামান্য উত্তেজনাও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় প্রভাব ফেলে।
ইরানের এই “মশা নৌবহর” কৌশলের শুরু ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়। তখন মার্কিন নৌবাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে ইরানের বড় যুদ্ধজাহাজগুলো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। এরপর থেকেই ছোট, দ্রুতগতির ও সহজে আক্রমণ চালাতে সক্ষম নৌকা ব্যবহারের দিকে ঝুঁকে পড়ে তেহরান।
এসব নৌকার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—এগুলো দ্রুত চলতে পারে, সহজে দিক পরিবর্তন করতে পারে এবং দলবদ্ধভাবে বড় জাহাজকে ঘিরে ফেলতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে মেশিনগান ও রকেটও সংযুক্ত থাকে। ফলে বড় যুদ্ধজাহাজের জন্য এগুলো শনাক্ত ও মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়তে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় ও অভ্যন্তরীণ বাজারে।
সব মিলিয়ে, ছোট নৌকার বহর ব্যবহার করে ইরান যে নতুন কৌশল নিয়েছে, তা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলছে।