
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ফ্যালকন নিউজ ২৪ ২৭ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা! গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে ব্যাপক সেনা মোতায়েন করছে, যার মধ্যে কয়েক হাজার মেরিন সেনা এবং বিশেষায়িত এয়ারবোর্ন ইউনিটও রয়েছে। আমেরিকার এই নজিরবিহীন সামরিক সমাবেশ দেখে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, ইরান অভিমুখে একটি ছোট পরিসরের হলেও স্থল অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। আর এই শঙ্কার প্রেক্ষাপটে ইরানও ঐতিহাসিক স্থলযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।
ইরানের ১০ লাখ সেনার প্রস্তুতি: তেহরানের সামরিক সূত্র বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে নিশ্চিত করেছে যে, স্থলযুদ্ধের জন্য ১০ লাখেরও বেশি যোদ্ধাকে সংগঠিত করা হয়েছে। গত কয়েক দিনে ইরানি তরুণদের মধ্য থেকে বাসিজ, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কেন্দ্রে যোগ দেওয়ার জন্য বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। সামরিক সূত্রটি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, “যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ফ্রন্টে স্থল আক্রমণ চালায়, তবে তা হবে তাদের ঐতিহাসিক ভুল। হিসাবের এমন গরমিলের জবাব দিতে ইরানের স্থল যোদ্ধারা পুরোপুরি প্রস্তুত।”
হরমুজ প্রণালীতে ‘আত্মঘাতী’ যুদ্ধ: ইরানি সামরিক সূত্র আরও বলেছে, “যুক্তরাষ্ট্র যদি আত্মঘাতী ও আত্মবিধ্বংসী কৌশল গ্রহণ করে হরমুজ প্রণালি খুলতে চায়, ঠিক আছে। তাদের সেই আত্মঘাতী কৌশল বাস্তবায়নের জন্যও আমরা প্রস্তুত। প্রণালিটি বন্ধ রাখার জন্যও আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে।” বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানে স্থল অভিযান শুরু হলে হরমুজ প্রণালী পুরো বিশ্বের জন্য একটি ভয়াবহ রণক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে।
পর্দার আড়ালে আলোচনা: একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সেনা সমাবেশ ঘটিয়ে স্থলযুদ্ধের পরোক্ষ ইঙ্গিত দিলেও অন্যদিকে ইরানের সাথে আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে এক দফা প্রস্তাব আদান-প্রদানও হয়েছে বলে জানা গেছে। অর্থাৎ, যুদ্ধের শঙ্কার মাঝেই কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রাখা হয়েছে।