
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ফ্যালকন নিউজ ২৪ ২৭ মার্চ ২০২৬
ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি) এক নজিরবিহীন ঘোষণা দিয়েছে। এখন থেকে মাত্র ১২ বছর বয়সি শিশুরাও সরাসরি যুদ্ধকালীন বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে। ‘ফর ইরান’ বা ‘ইরানের জন্য’ নামক একটি বিশেষ প্রকল্পের আওতায় শিশুদের এই নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
আইআরজিসি-র বক্তব্য: তেহরান শাখার সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা রহিম নাদালি জানিয়েছেন, অনেক কম বয়সি শিশুরাই স্বেচ্ছায় দেশের জন্য কাজ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। তাদের এই প্রবল দেশপ্রেমের কথা বিবেচনা করেই ন্যূনতম বয়স কমিয়ে ১২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই কিশোরদের টহল, চেকপয়েন্ট সামলানো এবং লজিস্টিক বা রসদ সরবরাহের মতো কাজে যুক্ত করা হবে।
আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ: ইরানের এই সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলো চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ একে আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, শিশুদের সামরিক বা আধা-সামরিক কাজে ব্যবহার করা তাদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে।
পুরানো বিতর্ক: মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, ইরানে শিশুদের নিরাপত্তামূলক কাজে ব্যবহারের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে শিশুদের সামরিক পোশাকে দেখা গেছে। তবে সরাসরি ১২ বছর বয়স থেকে নিয়োগ দেওয়ার এই নতুন ডিক্রি বা আদেশ শিশুদের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। বর্তমানে ইরানে ৩০ লাখের বেশি শিশু শ্রমিক রয়েছে বলে স্থানীয় অধিকারকর্মীরা সতর্ক করেছেন, যার মধ্যে এই সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।