দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশের জন্য আরও একটি দুঃসংবাদ এলো। জার্মানি-ভিত্তিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) ২০২৫ সালের 'দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই)' অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও এক ধাপ অবনতি হয়ে ১৩তম হয়েছে। এর আগের বছর এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪তম।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
টিআইবি জানিয়েছে, বিশ্বের ১৮২টি দেশের মধ্যে ১০০-এর স্কেলে মাত্র ২৪ স্কোর পেয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তালিকার নীচের দিক থেকে ১৩তম। আর উপরের দিক থেকে (সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ থেকে) বাংলাদেশের অবস্থান ১৫০তম।
তবে স্কোরের ক্ষেত্রে গত বছরের চেয়ে ১ পয়েন্ট উন্নতি হয়েছে। টিআইবি মনে করছে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশে গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক শাসন চালুর যে একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তার একটি ইতিবাচক প্রভাব এই সামান্য স্কোর বৃদ্ধিতে কাজ করেছে। কিন্তু রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়ায় তেমন কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় বাস্তবে বাংলাদেশের অবস্থান বা স্কোরের বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, "দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে রাজনৈতিক সদিচ্ছার কোনো বিকল্প নেই।" তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে রাতারাতি রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশা না থাকলেও, একটি শক্ত ভিত্তি স্থাপনের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর অসহযোগিতা এবং আমলাতন্ত্রের পুরনো দলীয়করণের কারণে সরকার সেই ভিত্তি স্থাপনে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
উল্লেখ্য, এ বছর ৮৯ স্কোর নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে তালিকার শীর্ষে আছে ডেনমার্ক। অন্যদিকে, মাত্র ৯ স্কোর নিয়ে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে আছে দক্ষিণ সুদান ও সোমালিয়া।
দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থা বেশ নাজুক। এই অঞ্চলে ভুটান (স্কোর ৭১) সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। ভারতের স্কোর ৩৯, শ্রীলঙ্কার ৩৫, নেপালের ৩৪, পাকিস্তানের ২৮ এবং আফগানিস্তানের স্কোর ১৬।