দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এখন থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের আয়, যেমন—টিউশন ফি, ভর্তি ফি, সেশন চার্জ ইত্যাদি, সরাসরি নগদে নেওয়া যাবে না। সকল লেনদেন হতে হবে ব্যাংক বা অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে।
'বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি-সংক্রান্ত নীতিমালা, ২০২৬' শিরোনামে জারি করা এই নতুন নীতিমালায়, প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং পরিচালনা কমিটির সভাপতির ওপর যৌথ দায়বদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।
কঠোর শাস্তির বিধান:
কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের এমপিও (মাসিক পেমেন্ট অর্ডার) স্থগিত বা বাতিল করা হবে এবং পরিচালনা কমিটি ভেঙে দেওয়া হবে। আদায় করা অর্থ অবশ্যই দুই কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাংকে জমা দিতে হবে। এছাড়া, মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া কোনো নতুন ফি আরোপ করা যাবে না।
শিক্ষকদের জন্য বিশেষ সুবিধা:
তবে, এই কঠোর নীতিমালার পাশাপাশি একটি মানবিক দিকও রাখা হয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীরা জরুরি প্রয়োজনে (যেমন—চিকিৎসা বা দুর্ঘটনা) পরিচালনা কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে তাদের মূল বেতনের সর্বোচ্চ ছয় মাসের সমপরিমাণ অর্থ ঋণ হিসেবে নিতে পারবেন, যা পরবর্তীতে মাসিক কিস্তিতে সমন্বয় করা হবে।