
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | Falconnews24.com
ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যকার উত্তেজনা এখন চরম শিখরে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাজ্যের মাটিতে অবতরণ করেছে মার্কিন বিমানবাহিনীর অন্যতম বিধ্বংসী ও দ্রুতগামী বোমারু বিমান বি-১ ল্যান্সার। শুক্রবার (৬ মার্চ) গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে এই বিশালদেহী যুদ্ধবিমানটি পৌঁছানোর পর আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
‘দ্য বোন’-এর বিধ্বংসী ক্ষমতা: সামরিক মহলে ‘দ্য বোন’ নামে পরিচিত এই ১৪৬ ফুট লম্বা বিমানটি ঘণ্টায় ৯০০ মাইল বেগে ছুটতে সক্ষম। ৮৬ টন ওজনের এই যুদ্ধবিমানটি একসাথে ২৪টি ক্রুজ মিসাইল বহন করতে পারে। এর উন্নত রাডার, জিপিএস এবং ইলেকট্রনিক জ্যামার সিস্টেম এটিকে শত্রুর রাডার এড়িয়ে হামলা চালাতে অনন্য করে তুলেছে।
ব্রিটেনের সবুজ সংকেত ও প্রতিরক্ষা অবস্থান: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মার্কিন বাহিনীকে তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। তবে ডাউনিং স্ট্রিট স্পষ্ট করেছে, এই অনুমতি শুধুমাত্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোর ওপর ‘প্রতিরক্ষামূলক হামলার’ ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকবে। ব্রিটেন সরাসরি হামলায় অংশ না নিলেও তাদের বিমানবাহিনী (আরএএফ) ইতিমধ্যে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার কাজে নিয়োজিত রয়েছে।
মার্কিন হুঁশিয়ারি ও সৌদি আরবের সাথে আলোচনা: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গত বৃহস্পতিবার এক কড়া হুঁশিয়ারিতে বলেছেন, ইরানের ওপর হামলার মাত্রা এখন থেকে নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলে দেশটির প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সৌদি আরবের সুরক্ষায় অতিরিক্ত ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার এবং একটি ডেস্ট্রয়ার ওই অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে।
অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিতর্ক: ব্রিটেনের কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক সরকারকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, শুধু ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানো যথেষ্ট নয়, বরং যেখান থেকে এগুলো ছোড়া হচ্ছে সেই উৎসের ওপর সরাসরি আঘাত করতে হবে। তবে তিনি এই যুদ্ধে কোনো স্থল সৈন্য পাঠানোর বিপক্ষে মত দিয়েছেন।
বর্তমানে আরএএফ ফেয়ারফোর্ড এবং ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি ব্যবহার করে মার্কিন বাহিনী ইরানের ওপর বড় ধরণের হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।