
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর নিজ গ্রাম বগুড়ার বাগবাড়ীতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। এর মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে স্থানীয় ৯১১ জন নারী সরাসরি সরকারি সুবিধার আওতায় এলেন এবং পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এই সেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
২০ এপ্রিল ২০২৬, সোমবার দুপুরে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ীতে এক আবেগঘন পরিবেশে শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রায় দুই যুগ পর নিজের জন্মভিটায় এলাকাবাসীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে তিনি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, এই ফ্যামিলি কার্ডের পরিকল্পনাটি তিনি গত এক দশক ধরে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সাজিয়েছেন। তাঁর প্রধান লক্ষ্য ছিল এমন একটি টেকসই পদ্ধতি তৈরি করা, যার মাধ্যমে সরাসরি পরিবারের নারীরা রাষ্ট্রের বিশেষ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন এবং এর মাধ্যমে প্রতিটি ঘরে সচ্ছলতা ফিরে আসবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, "নিজের বাড়ির মা-বোনদের হাতে এই কার্ড তুলে দিতে পেরে আমি আজ সার্থক। আলহামদুলিল্লাহ, দীর্ঘদিনের সেই স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে।" তিনি আরও জানান, আজ প্রাথমিক পর্যায়ে ৯১১ জনকে কার্ড দেওয়া হলেও কোনো যোগ্য পরিবার এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে না। ধাপে ধাপে দেশের প্রতিটি প্রান্তে এই কার্যক্রম বিস্তৃত করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব হয়। মূলত নারীর আর্থিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করাই এই সুদীর্ঘ পরিকল্পনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাংলাদেশের তৃণমূল অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোতে এক সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রথমত, এই উদ্যোগ সরাসরি গ্রামীণ নারীর হাতে অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পৌঁছে দিচ্ছে, যা নারীর সামাজিক মর্যাদা ও ক্ষমতায়নে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সহজলভ্যতা এবং ভর্তুকি মূল্যে খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এটি নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর থেকে জীবনযাত্রার বাড়তি চাপের বোঝা লাঘব করবে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এক বড় স্বস্তি আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে। সরকারি সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে। ডিজিটাল ডেটাবেজের আওতায় প্রকৃত সুবিধাভোগীদের শনাক্ত করার ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ও অনিয়মের সুযোগ অনিয়ন্ত্রিতভাবে কমে যাবে।
"তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আনা এবং নারীর অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হয়ে থাকবে।"