
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | Falconnews24.com
ইরান ভূখণ্ডে ইসরায়েলের নজিরবিহীন বিমান হামলার পর থেকে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অবস্থান নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন খামেনি 'নিহত' হয়েছেন, অন্যদিকে তেহরান একে 'মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ' বলে উড়িয়ে দিচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে— খামেনি কি সত্যিই নেই, নাকি তিনি বাঙ্কারে থেকে যুদ্ধের নেতৃত্ব দিচ্ছেন?
ট্রাম্পের দাবি ও গোয়েন্দা তথ্যের লড়াই: শনিবার এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, তাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী খামেনি মারা গেছেন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একটি অংশ মনে করছে, তেহরানে খামেনির প্রাসাদ কমপ্লেক্সে ইসরায়েলি ও মার্কিন যৌথ হামলায় তিনি গুরুতর আহত বা নিহত হয়েছেন। এমনকি স্যাটেলাইট চিত্রে সেই প্রাসাদ সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখা গেছে।
ইরানের পাল্টা দাবি: তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই দাবিগুলোকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, খামেনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং নিরাপদ স্থান থেকে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম ও সামরিক কমান্ড পরিচালনা করছেন। তেহরানের কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধের কৌশলগত কারণেই তাকে বর্তমানে প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না।
আত্মগোপন নাকি যুদ্ধের কমান্ড? সামরিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ইসরায়েলের পরবর্তী সম্ভাব্য হামলা এড়াতে খামেনিকে হয়তো অত্যন্ত সুরক্ষিত কোনো আন্ডারগ্রাউন্ড বাঙ্কারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকেই তিনি লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসকে (IRGC) সরাসরি যুদ্ধের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। তবে অন্য পক্ষের দাবি, শীর্ষ নেতাদের একের পর এক মৃত্যুতে ইরানি প্রশাসন এখন নেতৃত্ব সংকটে ভুগছে এবং খামেনি বর্তমানে অনেকটাই নিষ্ক্রিয়।
অপেক্ষায় বিশ্ববাসী: খামেনি যদি সত্যিই বেঁচে থাকেন, তবে তার পক্ষ থেকে কোনো ভিডিও বার্তা বা সাম্প্রতিক ছবি প্রকাশ করা হবে— এমনটাই আশা করছে আন্তর্জাতিক মহল। যতক্ষণ পর্যন্ত তেহরান কোনো অকাট্য প্রমাণ হাজির করতে পারছে না, ততক্ষণ পর্যন্ত 'খামেনি কোথায়'— এই রহস্য আরও ঘনীভূত হতেই থাকবে।