
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে ইসলামাবাদের শান্তি আলোচনা কোনো ফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই ব্যর্থতার জন্য সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক’ দাবিকে দায়ী করেছেন। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রেক্ষাপট ও রুশ সফর ইসলামাবাদে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর আব্বাস আরাঘচি বর্তমানে রাশিয়ায় অবস্থান করছেন। সেন্ট পিটার্সবার্গে সাংবাদিকদের তিনি জানান, শান্তি আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছিল যা সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ইরানের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না। আরাঘচির ব্যক্তিগত টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে দেখা যায়, তিনি রুশ মিত্রদের সাথে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আগামীতে কোন শর্তের ভিত্তিতে আলোচনা চলতে পারে, তা নিয়ে বিশদ আলোচনার পরিকল্পনা করছেন।
হরমুজ প্রণালি ও ওমান প্রসঙ্গ আলোচনায় উঠে এসেছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির বিষয়টিও। এই জলপথ দিয়ে বিশ্ব বাণিজ্যের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রিত হয়। আরাঘচি স্পষ্ট করেছেন যে, এই প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা একটি বৈশ্বিক ইস্যু। তিনি ওমানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোকে এই এলাকায় পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। ইরান ও ওমানের মধ্যে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা বা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা আগামীতে আলোচনার পথ সুগম করতে পারে।
বাংলাদেশে প্রভাব ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই কূটনৈতিক টানাপড়েন বাংলাদেশের জন্য যথেষ্ট উদ্বেগের। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি যদি ইরানের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় বা কোনো কারণে বন্ধ হয়ে যায়, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হবে। এর ফলে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং তার প্রভাবে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা তৈরির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়লে সেখানে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সারসংক্ষেপ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর শর্তের কারণে ইসলামাবাদ আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে রাশিয়ার সাথে নতুন সমীকরণের খোঁজে নামছে ইরান।