নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামে আজ সবচেয়ে করুণ কান্না শোনা যাচ্ছে। সৌদি আরবের রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত দুই ভাই মোহন ও সুমনের মা ময়না খাতুনের কণ্ঠে আজ ভেঙে পড়ার সুর। রোববার দুপুরে নিহত হওয়ার আগে সুমন তার মাকে একটি হৃদয়বিদারক ভয়েস মেসেজ দিয়েছিলেন: 'মারো, দুইডা কথা কমু মা, আমি আর কথা কমু না নে মা। আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি'। ময়না খাতুন জানান, এর কিছুক্ষণ আগেই সুমন ফোনে বলেছিল, 'ভালোই আছি মা, তুমি ভাত খাও, সুস্থ থাকো'।
নিহত মোহনেরও বিয়ের অল্প দিন বাকি ছিল। তিনি মাকে বলতেন, 'এসে বিয়া করমু মা। মেয়া-টিয়ে দেখো না, আমি ১০টা দেখে একটা বিয়া করমু মা'। আজ এই দুই ভাইয়ের বাড়িতে শুধুমাত্র তাদের অসম্পূর্ণ স্বপ্ন আর কষ্টের গল্প শোনা যাচ্ছে। ময়না খাতুন রুদ্ধকণ্ঠে বলেন, 'বড় ছাওয়াল গেছে সাত বছর হচ্ছে, কোনোদিন ছুটিতে আসেনি। বলত, মা কষ্ট করে খেয়ে দেনা শোধ করছি কেবল'।
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, 'আত্রাই উপজেলার এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। মরদেহ ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে'। নিহতদের মধ্যে বিশা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের সুমন (৩৫) ও শুভ (২৭), গন্ডগোহালি গ্রামের মোহন প্রামানিক, সুমন প্রামানিক, রুবেল হোসেন (৩০) ও কলি প্রামাণিক (৩৫), পারকাসুন্দা গ্রামের আব্দুল জলিল (৩৮), বিশা গ্রামের সাগর (৩১) ও মজিদুল (৩৪) এবং উদনপৈ গ্রামের ফরিদ শেখ (৩২) রয়েছেন। এই ঘটনায় গ্রামের চার পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে গেছে, যারা তাদের প্রিয়জনদের শেষ দেখা দেখার অপেক্ষায় দিন গুনছে।