যশোর-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। মাদরাসায় ঢুকে শিক্ষক ও স্থানীয়দের সঙ্গে বিরোধে জড়ানো এবং মারধরের ঘটনার জেরে এলাকাবাসী এই হামলা চালায়। পরবর্তীতে ফেসবুক লাইভে এসে নিজের মেয়ের মানসিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এমপি গোলাম রসুল।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় এমপি গোলাম রসুলের বাসভবনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে ফেসবুক লাইভে এসে এমপি গোলাম রসুল তার মেয়েকে মানসিক রোগী হিসেবে দাবি করেন। তিনি বলেন, ভারতের হায়দরাবাদ ও দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে তার মেয়ের চিকিৎসা করানো হয়েছে।
যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুম খান জানান, পুলিশ সংসদ সদস্য ও তার পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা দিয়েছে। তবে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী বক্তব্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে তাদের কিছু জানা নেই।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এমপি গোলাম রসুলের বাসার ঠিক সামনেই ‘আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ’ ও একটি মসজিদ অবস্থিত। ওই মাদরাসায় যাতায়াতের একটি রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এমপির পরিবারের সঙ্গে মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার এমপির মেয়ে অনন্যা মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি দেখান।
পরদিন মঙ্গলবার সকালে এমপি গোলাম রসুল ও তার মেয়ে সশরীরে মাদরাসায় গিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে পুনরায় বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে অনন্যা নামের ওই তরুণী রেকসোনা নামের স্থানীয় এক নারীর মাথা ফাটিয়ে দেন এবং নাসির উদ্দিন নামের আরেক অভিভাবকের ওপর চড়াও হন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এলাকাবাসী এমপির বাসভবনে হামলা চালায়।