ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের লাইন-১ (এমআরটি-১) এবং লাইন-৫ উত্তর (এমআরটি-৫ উত্তর) প্রকল্প দুটির ব্যয় সম্প্রতি অস্বাভাবিক হারে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। মোট ১ লাখ ২১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধির এই প্রস্তাব বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) বৈঠকে অনুমোদনের জন্য জমা দিয়েছে।
এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের জন্য ১২৯.৮২% ব্যয় বৃদ্ধি প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বর্তমানে অনুমোদিত ব্যয় ৫২ হাজার ৫৬২ কোটি টাকার বিপরীতে নতুন করে চাওয়া হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা। এ ছাড়া নির্মাণকাল ৫ বছর বাড়িয়ে ২০৩৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে এমআরটি-৫ উত্তর প্রকল্পের জন্য ১২৬% ব্যয় বৃদ্ধি প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে পূর্বানুমোদিত ৪১ হাজার ২৩৯ কোটি টাকার বিপরীতে নতুন প্রস্তাবিত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৯৩ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। নির্মাণকাল ৬ বছর বাড়িয়ে ২০৩৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রস্তাব করা হয়েছে।
ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, নতুন কর এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় ঠিকাদারদের বেশি দর দাবিকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বেশ কয়েকটি প্রধান স্টেশনের নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাংলাদেশে নির্মাণসামগ্রীর বেশিরভাগই আমদানি করতে হয় বলে ভারতের সাথে ব্যয়ের সরাসরি তুলনা সম্ভব নয়।
এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পে জাপান সরকারের জাইকা ৮৫ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা ঋণ দেবে বলে প্রস্তাব করা হয়েছে, যা পূর্বানুমোদিত ঋণের চেয়ে ১১৭% বেশি। সরকারি তরফ থেকে ১৬৯% ব্যয় বৃদ্ধি প্রস্তাব করা হয়েছে ৩৫ হাজার ২৫৯ কোটি টাকার। অন্যদিকে এমআরটি-৫ উত্তর প্রকল্পে জাইকার ঋণ ১৩৭% বৃদ্ধি পাবে বলে প্রস্তাব করা হয়েছে, মোট ঋণ দাঁড়াবে ৬৮ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা। সরকারি অংশের ব্যয়ও দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।