
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসের (Nipah Virus) প্রাদুর্ভাব নিশ্চিত হওয়ার পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নিপাহ ভাইরাসের কোনো কার্যকর নিরাময় বা ভ্যাকসিন না থাকায় এই প্রাদুর্ভাবকে কেন্দ্র করে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।
আক্রান্ত: ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে এ পর্যন্ত দুইজনের শরীরে নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
নজরদারি: আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা প্রায় ২০০ ব্যক্তিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং তাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সতর্কতা: থাইল্যান্ড ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা যাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং চেকপয়েন্ট চালু করেছে এবং তাইওয়ান এই রোগটিকে 'ক্যাটাগরি-৫' হুমকি হিসেবে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে।
নিপাহ একটি প্রাণিবাহিত (Zoonotic) ভাইরাস যা প্রধানত বাদুড় এবং শূকর থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। এই ভাইরাসের কিছু ভয়াবহ দিক হলো:
মৃত্যুর হার: সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC)-এর মতে, এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মৃত্যুর হার ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ।
সংক্রমণের মাধ্যম: কাঁচা খেজুরের রস (যা বাদুড়ের লালা বা রেচন পদার্থ দ্বারা দূষিত), আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শ এবং আক্রান্ত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে এটি ছড়াতে পারে।
লক্ষণ: প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, কাশি এবং পেশিতে ব্যথা। সংক্রমণ বাড়লে মস্তিষ্কে প্রদাহ (Encephalitis) তৈরি হতে পারে, যা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: ২০০৭ সালের পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ল, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যেহেতু এই ভাইরাসের কোনো সুনির্দিষ্ট ওষুধ বা টিকা নেই, তাই সচেতনতাই একমাত্র পথ: ১. কাঁচা খেজুরের রস পান করা থেকে বিরত থাকুন। ২. কোনো ফল খাওয়ার আগে ভালো করে ধুয়ে নিন এবং পাখির খাওয়া আংশিক ফল বর্জন করুন। ৩. আক্রান্ত ব্যক্তির সেবা করার সময় মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করুন এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা বজায় রাখুন।
দেশ-বিদেশের সব ব্রেকিং নিউজ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক আপডেট সবার আগে পেতে চোখ রাখুন ফ্যালকন নিউজ ২৪-এর পর্দায়।
ফেলকন/এমএমডি