দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া টুথপেস্টের ৭৬.৫ শতাংশে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) পরিচালিত এক বছরের গবেষণায় ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রয়েছে। সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেল টুথপেস্টে (৩২০টি/১০০ গ্রাম)। শিশুদের জন্য বাজারজাত টুথপেস্টের ৬৭ শতাংশেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের গবেষণাগারে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা যায়, কোনো টুথপেস্টের মোড়কে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি সম্পর্কে তথ্য উল্লেখ করা নেই। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই) জানিয়েছে, তারা টুথপেস্টের মানদণ্ড সংশোধন বিবেচনা করছে।
গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। দাঁত ব্রাশের সময় এই কণাগুলো পানির মাধ্যমে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরোক্ষভাবে মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে। আন্তর্জাতিক গবেষণায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের সাথে শ্বাসতন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র ও হৃদরোগের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
এসডোর মহাসচিব ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, "ভোক্তাদের সুরক্ষা ও পরিবেশ রক্ষায় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং লেবেলে উপাদান উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা জরুরি"। গবেষণায় অংশ নেওয়া ২,৭৬০ জন ভোক্তার মধ্যে ৪১.৯ শতাংশই টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি সম্পর্কে অজানা ছিলেন।