ঢাকায় ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে আটটি জোন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে জানান, প্রতিটি জোনের ই-রিকশার জন্য আলাদা রং নির্ধারণ করা হবে এবং এক জোনের ই-রিকশা যাতে অন্য জোনে চলাচল করতে না পারে সে ব্যবস্থাও রাখা হবে।
প্রধান সড়কে ই-রিকশা চলাচল করতে দেওয়া হবে না বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মোট আটটি জোনে ই-রিকশা চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। কোন ই-রিকশা কোন সড়কে চলবে তা সিটি কর্পোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে নির্ধারণ করবে। ই-রিকশা শুধু অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচল করবে।
ঢাকায় দুই ও চার যাত্রী বহন করতে পারে এমন ই-রিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ছয় যাত্রী বহনকারী ই-রিকশাকে ঢাকা শহরে নিবন্ধন দেওয়া হবে না। জেলা শহর ও গ্রামীণ এলাকায় দুই, চার ও ছয় যাত্রী বহনকারী ই-রিকশা নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে।
ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। ভেটিংয়ের জন্য নীতিমালাটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং ভেটিং শেষে এক সপ্তাহের মধ্যে অথবা যত দ্রুত সম্ভব এটি জারি করা হবে।
প্রস্তাবিত নীতিমালায় ই-রিকশা নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) অথবা সরকারি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল শাখার প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করা হবে জানান তিনি। পাশাপাশি ট্রাফিক বিভাগের ফিটনেস সনদও লাগবে। ই-রিকশা তৈরির কারখানাগুলোকেও নির্দিষ্ট ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে এবং বুয়েট বা কোনো প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ই-রিকশা তৈরি করতে হবে।
চার্জিং ব্যবস্থার বিষয়েও নীতিমালায় শর্ত রাখা হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে ই-রিকশার চার্জিং পয়েন্টগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হবে। এসব চার্জিং পয়েন্টের জন্যও সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার কাছ থেকে লাইসেন্স নিতে হবে।
ঢাকার যানজট ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, এসব সমস্যা দীর্ঘদিনের এবং একসঙ্গে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। বাসস্ট্যান্ডের বাইরে গাড়ি পার্কিং বন্ধ করা এবং ঢাকার পাইকারি কাঁচাবাজার শহরের বাইরে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের ফল পেতে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।