ইন্টারনেটে ব্যক্তিগত গোপন তথ্য কেনাবেচার একটি বিশাল বাজার গড়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট, টেলিগ্রাম চ্যানেল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রকাশ্যে এসব তথ্য বিক্রি করা হচ্ছে। মাত্র এক হাজার টাকা দিলেই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কারও কল লিস্ট, লোকেশন ও এনআইডির তথ্য পাওয়া যায়।
ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ফোন কলের তথ্য ছাড়াও এনআইডি, লোকেশন, ফোন কল রেকর্ড, পাসপোর্ট তথ্য, এসএমএস তালিকা, টিআইএন সার্টিফিকেট, জন্ম-মৃত্যু সনদ, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ এবং মোবাইল আর্থিক সেবার বিবরণীও বিক্রি করা হচ্ছে। তথ্য বিক্রেতারা এসব সেবার জন্য নির্দিষ্ট দাম ঠিক করে রেখেছেন। ক্রেতাকে শুধু একটি মোবাইল নম্বর বা এনআইডি নম্বর দিতে হয়। এরপর বিক্রেতারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করে দেয়। অনেক সময় এসব তথ্য সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের সার্ভার থেকে পাওয়া নথি বা সরকারি কাগজের মতো করে দেওয়া হয়।
বিক্রেতারা বিভিন্ন দামে এসব তথ্য বিক্রি করেন। যেমন, এনআইডি পিডিএফ ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা, লোকেশন তথ্য টাকা পেমেন্টের মাত্র ১৬ মিনিটের মধ্যে পাওয়া যায়, তিন মাসের কল রেকর্ড ৮০০ থেকে এক হাজার ৫০ টাকা এবং বিকাশ অ্যাকাউন্টধারীর এনআইডি ও স্টেটমেন্ট এক হাজার থেকে চার হাজার ৫০০ টাকা।
ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপের পোস্ট বিশ্লেষণ করে ডিসমিসল্যাব ১০টি সক্রিয় ওয়েবসাইটের সন্ধান পেয়েছে। ফেসবুকে এক মাসে তথ্য বেচাকেনার ৬০০টিরও বেশি বিজ্ঞাপন খুঁজে পাওয়া গেছে। ওয়েবসাইটগুলোতে নিবন্ধন করে প্রায় সবগুলোর নকশা ও কাজের ধরন একই দেখতে পায় সংস্থাটি। সেখানে এনআইডি, জন্মনিবন্ধন, টিআইএন সনদ, কল রেকর্ড ও মোবাইলের অবস্থানের তথ্যের দাম দেওয়া ছিল।
এ বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভেতরের কেউ ছাড়া রিয়েল টাইম তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়। অথবা কেউ তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার নিরাপত্তা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছে। দুক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায় রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।