কুমিল্লার দাউদকান্দিতে সন্দেহভাজন হিসেবে ২৮ কিশোরকে আটক করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। বুধবার রাত ১০টার দিকে থানার দরজা ভেঙে ২২ কিশোর বেরিয়ে যায়। তারা থানার সামনে ভুয়া স্লোগান দিতে থাকে।
অভিভাবকরা জানান, আটক কিশোরদের বেশিরভাগের বিরুদ্ধে পুলিশের অপরাধ সংক্রান্ত রেকর্ডে কোনো অভিযোগ নেই। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আটক কিশোরদের স্বজন ও স্থানীয় লোকজন দাউদকান্দি মডেল থানার প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হতে থাকেন। থানার কক্ষে আটক কিশোররা চেয়ার-টেবিল ও দরজা ভেঙে বেরিয়ে যায় এবং থানার সামনে ভুয়া স্লোগান দিতে থাকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটকরা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। তাদের আটক করে থানায় আনা হয়। দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম হ্যান্ডমাইকে বক্তব্য দিয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি জানান, অপ্রয়োজনে ঘোরাফেরার কারণে সন্দেহভাজন হিসেবে ২৮ জনকে আটক করা হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ২২ জনকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ছয়জনের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের অফিসিয়াল পেজে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশে জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। এ অভিযানে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন স্থানসহ প্রত্যেকটি থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে, যেখানে বখাটেদের উৎপাত রয়েছে, সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আগের কোনো অপরাধে তাদের সম্পৃক্ততা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।