যুক্তরাষ্ট্র ইরান সংক্রান্ত নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লাহ মোজতাবা খামেনির প্রধান অর্থসংস্থানকারীসহ ১৩ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরে তেল ট্যাংকারে ইরানের হামলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা আলী আনসারি একজন ইরানি ব্যাংকার ও ব্যবসায়ী যিনি দুবাইভিত্তিক। ব্রিটেন পূর্বে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে অর্থায়নের জন্য তাকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছিল। ট্রেজারি জানিয়েছে, আনসারি সরকারি অর্থকে ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত করেছেন এবং ইরানের শাসকগোষ্ঠী ও ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এর জন্য বিশাল পরিমাণ সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের অফিস অফ ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) তিনটি ইরানভিত্তিক এক্সচেঞ্জ হাউজ ও বিদেশি 'ফ্রন্ট কোম্পানি'কেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো নিষিদ্ধ ইরানি ব্যাংকগুলোর পক্ষে বছরে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার লেনদেন করত এবং সরকারের অবৈধ কার্যক্রম গোপন করতে শেল কোম্পানির স্তর ব্যবহার করত।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে বলেছেন, "যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শাসকগোষ্ঠীর আর্থিক সুবিধা কাটাতে দৃঢ় পদক্ষেপ নিচ্ছে। এই নেটওয়ার্কগুলোর লক্ষ্যবস্তু করে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানি সরকারের বৈদেশিক মুদ্রা অ্যাক্সেস ও আন্তর্জাতিক আর্থিক কার্যক্রম ব্যাহত করছে।"
এই নিষেধাজ্ঞা জারির দিনটি ছিল অপেক্ষাকৃত শান্ত। এর আগের সপ্তাহে তিনটি কাতারি ও সৌদি বাণিজ্যিক ট্যাংকারে ইরানি হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে এবং ইরান পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার বলেছেন যে ইরানের সাথে সমঝোতা শেষ হয়েছে, তবে ইরানের অনুরোধে আলোচনা চলমান রাখতে রাজি হয়েছেন ওয়াশিংটন।