
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে এবার চরম কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানী তেহরানে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ২০০ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন সাময়িকী ‘টাইম ম্যাগাজিন’-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইরান। তেহরান ছাড়াও কোম, ইসফাহান ও মাশহাদসহ অন্তত ৩১টি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি সরকার পরিবর্তন এবং সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশটির এলিট ফোর্স ‘ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড’ কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর থেকেই সহিংসতা বৃদ্ধি পায়।
টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের একটি হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন যে, মাত্র ছয়টি হাসপাতালেই ২০৬ জনের মরদেহ রেকর্ড করা হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই তরুণ এবং তারা সরাসরি গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন। এমনকি উত্তর তেহরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর মেশিনগান দিয়ে ব্রাশফায়ার করার মতো ভয়াবহ ঘটনাও ঘটেছে।
এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো বন্ধ না করলে ইরানকে চড়া মূল্য দিতে হবে। তবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এই বিক্ষোভের পেছনে বিদেশি শক্তির হাত রয়েছে বলে দাবি করেছেন এবং নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের মৃত্যুদণ্ডের হুমকি দিয়েছেন। বর্তমানে পুরো ইরানে ইন্টারনেট সেবা সীমিত করা হয়েছে এবং থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ফেলকন/এমএমডি