রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় এক নির্মম হত্যাকাণ্ডে একটি পরিবারের চার সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী ও ১২ বছরের শিশু পুত্র প্রিয়ম চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ইয়াবা সেবন করতে দেখা দেওয়ায় ও বাধা দেওয়ায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পাশের একটি ভবনের ওপর দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ওঠেন মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। তারা ইয়াবা সেবন করছিলেন এমন সময় শব্দ শুনে ছাদে যান গণপতি চক্রবর্তী। তিনি তাদের বাধা দিলে গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।
গণপতির চিৎকার শুনে স্ত্রী প্রীতিলতা ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করলে সিঁড়িতেই তাকে হত্যা করা হয়। এরপর মেয়ে পার্থী এবং সর্বশেষ ১২ বছরের শিশু প্রিয়মকে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রিয়ম আসামিদের চিনত বলে পরিচয় ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় তাকেও হত্যা করা হয়েছে।
হত্যার পরও ওই বাড়িতেই ছিলেন দুজন আসামি। তারা গোসল করেন, খেজুর খান এবং ইয়াবা সেবন করেন। পরে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট ফাঁকা হলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। যাওয়ার আগে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে ডাকাতির ঘটনা বলে তদন্তকে ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা সেবনের আলামত, খেজুরের বিচি ও কামড় দেওয়া শসা উদ্ধার করা হয়েছে। খেজুরের বিচি ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ইয়াবা সরবরাহকারী হিসেবে খুশি ওরফে প্রশান্তর নামও পেয়েছে বলে জানিয়েছে।