
অর্থনীতি ডেস্ক | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ বিশ্ববাজারে সোনার দামে নজিরবিহীন এক ইতিহাস তৈরি হলো। প্রথমবারের মতো মূল্যবান এই ধাতুর দাম প্রতি আউন্সে ৫ হাজার মার্কিন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। গত এক বছরেই স্বর্ণের দাম বেড়েছে ৬০ শতাংশের বেশি, যা বিশ্ব অর্থনীতির ইতিহাসে বিরল।
মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে বিশ্ব রাজনীতি: আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বেশ কয়েকটি বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের মাঝে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা, ইরানকে কেন্দ্র করে ক্রমবর্ধমান হুমকি এবং গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। অনিশ্চয়তার এই সময়ে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনা ও রুপার দিকে ঝুঁকছেন।
ডলারের দুর্বলতা ও আন্তর্জাতিক প্রভাব: সোমবার এশীয় বাজারে লেনদেনের শুরুতেই ডলার কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। ডলারের বিপরীতে জাপানি ইয়েনের শক্তিশালী অবস্থান এবং জাপানি মুদ্রাকে সমর্থন দিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপের গুঞ্জন স্বর্ণের দাম বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলেছে। এদিন সোনার দাম প্রতি আউন্সে ৫ হাজার ৮৮.৫২ ডলারে গিয়ে পৌঁছায়। শুধু সোনাই নয়, রুপার দামেও উর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে, যা বর্তমানে প্রতি আউন্স ১০৮ ডলারের উপরে লেনদেন হচ্ছে।
ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতি ও মুদ্রাস্ফীতি: বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া বাণিজ্য নীতি বাজারকে আরও বেশি আতঙ্কিত করে তুলছে। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে কানাডাকে দেওয়া ট্রাম্পের ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে। এছাড়া বিশ্বজুড়ে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনা কেনার প্রবণতাকেও দাম বাড়ার কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মজুত পরিস্থিতি: ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুসারে, মানব ইতিহাসে এ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার ২৬৫ টন স্বর্ণ উত্তোলন করা হয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বলছে, ভূগর্ভে এখনো প্রায় ৬৪ হাজার টন স্বর্ণের মজুত থাকতে পারে। তবে আগামী বছরগুলোতে সরবরাহ ব্যবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।